August 5, 2020, 11:07 am

নোটিশ
সাইটের মান উন্নয়নের কাজ চলছে। কিছুটা সময় দিয়ে সহযোগীতা করবেন। ধন্যবাদ

ঘাটাইলের সংগ্রামপুরে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করছে বৃদ্ধ নুরু মিয়া

ঘাটাইলের সংগ্রামপুরে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে সংগ্রাম করছে বৃদ্ধ নুরু মিয়া

ঘাটাইলের সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ধোপা খাগড়াটা গ্রামের নুরুল ইসলাম (নুরু মিয়া) অসুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। নুরু মিয়া পেশায় দিনমজুর হলেও অসুস্থতার কারনে কয়েক মাস যাবত বিছানায় পড়ে আছে। বর্তমানে সে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিনা চিকিৎসায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

শুরুতে চিকিংসা পাওয়ার আশায় সরকারি হাসপাতালে গেলে হাতে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করে দেন চিকিৎসক। কিন্তু চিকিৎসার টাকা না থাকায় প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না তাই ধুঁকে ধুঁকে মরতে চলেছেন ৭৪ বছরে এই বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম মিয়া।

নুরু মিয়ার ভাই বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমার ভাই অসুস্থ। এলাকাবাসী কাছ থেকে হাত পেতে ও ধার করে মধুপুর হাসপাতাল এবং ময়মনসিংহ হাসপাতাল ঘুরেও কাজ হয়নি। ডাক্তার কইছে অপারেশন করে ভালো ঔষধ খাওয়াইলে ঘাঁ শুকিয়ে যাবে। কিন্তু অপারেশনের এত টাকা আমরা কই পাবো?….ভাই টা আমার মইরা যাইবো- বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

প্রতিবেশি অনেকেই জানান, নুরু মিয়ার অবস্থা দেখলে চোখে পানি চলে আসে। প্রায় সময়ই যন্ত্রণায় শিশুদের মত চিৎকার করে। ও মারে ও বাবারে বলে কাঁদে। শুনে খুবই কষ্ট লাগলেও আমরাও খেটে-খাওয়া মানুষ। যতটা সম্ভব করেছি। এখন সরকারি ভাবে কোনো সহযোগিতা না পেলে নুরু মিয়াকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে না।

নুরু মিয়া বলেন, ডাক্তার একেক সময় একেক রোগের কথা কয়। একবার কয় হানিয়া হইছে, আবার কয় টিবি হইছে, আবার কয় ক্যান্সার হইছে। এক লাখ টাকা নিয়া যাইতে কয়। এত টাকা আমি কই পামু তাই বাড়িতে আইয়া পরছি। কয়দিন পরেই ফোঁড়া ফাইটা এই অবস্থা হইছে। মেলা টাকার ঔষধ লাগে প্রতিদিন। প্রতিবার ড্রেসিং করতে ২ হাজার করে টাকা নেয় ডাক্তার। মাইনসের সহযোগীতায় বাড়িতে ডাক্তার আইনা ৩ বার আর টিলাবাজার যাইয়া ২ বার দেখাইছি। তাতে আমার ১০ হাজার টাকা লাগছে। এখন আর টাকা দিতে পারি না তাই আমার স্ত্রী ও এক ভাতিজা আইসা ড্রেসিং কইরা দেয়।

কি বলবো বাবা কষ্টের কথা, ওরা যখন গরম পানি দিয়া টাইনা টাইনা বেন্ডিস খোলে তখন মনে কয় আমার কলিজাটা টাইনা ছিড়া ফালাইতাছে। কুলাইতে না পাইরা ও মারে ও বাবারে বলে চিল্লাই।

নুরু মিয়া আরো বলেন, হুনছি আমগো টিএনও (ইউএনও) স্যার খুব ভালা মানুষ। তারে কইয়া আমারে একটু চিকিৎসার ব্যবস্থা কইরা দেন বাজান।

এ বিষয়ে ঘাটাইল মিডিয়ার সাথে সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহীমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বিস্তারিত জেনে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমি খুব শিগ্রই তাকে দেখতে যাবো এবং আমি এখনি ওই ওয়ার্ডের মেম্বারকে বলে নুরু মিয়ার পরিবারের জন্য এক বস্তা চাউলের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

২নং ওয়ার্ডের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, নুরু মিয়া সত্যিই খুব দরিদ্র মানুষ। আমি তাকে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড ও সবার থেকে কিছু নগদ অর্থ তুলে সহযোগীতা করেছি।

সংগ্রামপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ইকরামুল ইসলাম সবুজ ও বাংলাদেশ অনলইন বঙ্গবন্ধু ঐক্য পরিষদের ঘাটাইল শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজ নুরু মিয়াকে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন।

শোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




Developed By Justin Shirajul Islam
Design & Developed BY Mgic TV