Warning: Use of undefined constant jquery - assumed 'jquery' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home5/ghatailmedia/public_html/wp-content/themes/simplenews/functions.php on line 28

October 21, 2020, 2:02 pm

নোটিশ
সাইটের মান উন্নয়নের কাজ চলছে। কিছুটা সময় দিয়ে সহযোগীতা করবেন। ধন্যবাদ
শিরোনাম
ঘাটাইল পৌর মানবাধিকার কমিশনের শামছুল সভাপতি; লতিফ সম্পাদক বাংলাদেশ অনলাইন বঙ্গবন্ধু এক্য পরিষদ সংগ্রামপুর ইউনিয়ন শাখা কমিটির অনুমোদন ঘাটাইলে ২১ই আগষ্টে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্বরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসে লক্ষিন্দর ইউনিয়নে ছাত্রলীগের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ঘাটাইলের পানিবন্দী বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার বিতরন বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে সংগ্রামপুর ইউনিয়নে দোয়া ও আলোচনা সভা ঘাটাইলে বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন প্রদান লোকেরপাড়া জনকল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন ৪নং লোকেরপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আকরাম হোসেন লোকেরপাড়া ইউনিয়নবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেহেদী হাসান

ঘাটাইলে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ মুখ খুলছে না; তবে কার ভুলে প্রাণ গেল হায়দারের?

ঘাটাইলে বিদ্যুৎ অফিসের কেউ মুখ খুলছে না; তবে কার ভুলে প্রাণ গেল হায়দারের?

বাড়ি থেকে ভেসে আসছে কান্নার আওয়াজ। বাবার নিথর দেহের পাশে বসে কাঁদছে অবুঝ তিন সন্তান। চলছে লাশ দাফনের প্রস্তুতি। ওরা হায়দারের (৪৫) তিন ছেলে মেয়ে। ওদের বাবা টাঙ্গাইলের ঘাটাইল বিদ্যুৎ (পিডিবি) অফিসে মাস্টাররোলে চাকুরী করতেন।

ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ভুল সাটডাউনের কারণে মাস্টাররোলে চাকুরী করা শ্রমিক খন্দকার হায়দার আলী (৪৫) ১২ দিন মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে ঢাকা উত্তরা ১১নং সেক্টরে আল-আশরাফ প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অফিসের অন্যান্যরা জানান, হায়দার অত্যন্ত দরিদ্র ঘরের সন্তান ছিলেন। সৎ ও কাজ পাগল ছিলেন সে। কি দিন কি রাত, কোথাও বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা থাকলে ওপরের আদেশ পেলেই ছুটে যেতেন সেখানে।

সে উপজেলার পোড়াবাড়ী গ্রামের খন্দকার সোহরাব আলীর ছেলে। সে বর্তমানে টেপিকুশারিয়া শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করতেন।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় তার লাশ সন্ধানপুর ই্উনিয়নের টেপিকুশারিয়া গ্রামে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে গত ২৮ জুন ঘাটাইল ডট কমে ‘ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসের খামখেয়ালীতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এক শ্রমিক’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানা যায়, গত জুন মাসের ২০ তারিখ রাত ১০ টার দিকে উপজেলার লেংড়াবাজার এলাকার ১১ হাজার ভোল্টের লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষের আদেশে লাইন মেরামত করতে সেখানে যান তিনি। বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই উচ্চ ভোল্টের ওই লাইনে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়।

সাথে সাথে বৈদ্যাতিক সটে তার গায়ে আগুন ধরে যায়। পড়ে যান হায়দার খুঁটির ২৫ ফুট উপর থেকে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ সেখান থেকে আবার তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার সাথে থাকা লোকজন পঙ্গুতে না নিয়ে ঢাকার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান।

গত ২৪ জুন তারিখে তাকে ঢাকা উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে আল-আশরাফ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরেরদিন ২১ জুন তার মাথা ও মুখ অপারেশন করে আইসিসিতে রাখা হয়। দিন দিন তার অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। দীর্ঘ ১২ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে মৃত্যুর কাছে তিনি হার মানেন তিনি।

এদিকে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা তার পরিবার। এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে জরিয়ে ধরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী।

তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যাতিক ওই সটে হায়দারের শরীরের ৮০ ভাগই পুড়ে গিয়েছিল।

ওই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আঃ বাছেদ, গৌরিশ্বর গ্রামের জিন্নত আলী, আঃ হালিম, বাদশা মিয়া, আক্তার হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শী হায়দর আলী ও আবু সাইদ জানায় ঘটনার দিন রাত ৯ টা পর্যন্ত শ্রমিক হায়দর আলী তার ঘরেই শোয়া ছিল। ঐদিন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে অফিস থেকে মোবাইলে ডেকে হায়দার আলীকে লাইন মেরামতের দায়িত্ব দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে অফিসের সাথে একাধিকবার কথাও হয়। পরে আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার সময় হায়দার আলী ১১ হাজার লাইনে কাজ করতে যায়। কিছুক্ষন পর কোন প্রকার যোগাযোগ ছাড়াই অফিস থেকে লাইনে সংযোগ দেয় যার ফলে প্রায় ২৫ ফুট উপর থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। তার গায়ে আগুন লেগে প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে যায়।

কিন্তু কার ভুলে এ মৃত্যু?

এ বিষয়ে ঘাটাইল বিদ্যুৎ অফিসের কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

কিন্তু অফিসের গোপন সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিনসহ আগে পরের প্রায় পাঁচ দিনের শার্ট ডাউনের কাগজ রেজিস্টার বই থেকে ইউসুফ নামে একজন লাইন সাহায্যকারী ছিড়ে ফেলেন। কিন্তু ইউসুফের দাবি ওই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

ঘটনার দিনই সংবাদকর্মীরা ওই রেজিস্টার দেখতে চাইলে তাদের দেখানো হয়নি। সেখানে সৃষ্টি হয় এক ধুম্রজালের।

ওইদিন কন্ট্রোল রুমে কর্তব্যরত অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী আ: হালিম জানান, ওই সময় লাইন মেরামতের জন্য কোন শার্টডাউন দেওয়া হয়নি।

তাহলে হায়দার কিভাবে শার্টডাউন ছাড়া ১১ হাজার ভোল্ট লাইনে কাজ করতে গেল?

এমন প্রশ্ন করলে শার্টডাউনের খাতা দেখতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন আমাদের অফিসে শার্টডাউন এন্ট্রি করা হয় না।

ঘটনার দিন ডিউটিরত লাইনম্যানের অপর সাহায্যকারী জরিপ তালুকদার বলেন, আমি কিছু বলবো না। এক্সচেঞ্জ স্যার সব বলবেন।

হায়দার যে লাইন মেরামত করতে ছিলেন সেই লাইনটি গিয়েছে উপজেলার ছামানের বাজার ফিডার থেকে। ওই ফিডারের দায়িত্বে থাকা রাসেল অবশ্য বলেন তিনি কিছুই জানেন না। সব জানেন দপ্তর প্রধান।

ঘাটাইল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম খান ঘাটাইল ডট কমকে বলেন, ওই দিন প্রায় তিন চার ঘণ্টা আমাদের এখানে বিদ্যুৎ ছিলনা। ওই লাইনের ওপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে পল্লী বিদ্যুতের তার চলে গেছে, সেখান থেকে সংযোগের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

রেজিস্টার থেকে পাতা ছিড়ে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই বিষয়গুলো আমরা খুব একটা দেখিনা। তবে সব ঠিক আছে।

শোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




Developed By Justin Shirajul Islam
Design & Developed BY Mgic TV