August 5, 2020, 10:00 am

নোটিশ
সাইটের মান উন্নয়নের কাজ চলছে। কিছুটা সময় দিয়ে সহযোগীতা করবেন। ধন্যবাদ

ঘাটাইলে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়ীঘরে হামলা, লুটপাট, নিহত ১ (ভিডিওসহ)

ঘাটাইলে জমি নিয়ে বিরোধে বাড়ীঘরে হামলা, লুটপাট, নিহত ১ (ভিডিওসহ)

ঘাটাইল উপজেলায় সংগ্রামপুর ইউনিয়নের বগা গ্রামের পল্টন পাড়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উক্ত মারামারির ঘটনায় আহত একজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। এর জের ধরে পরবর্তিতে বাড়িঘরে হামলা করে মালামাল লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভিডিও নিউজ দেখতে এখানে ক্লিক করুন:

সরেজমিনে উক্ত এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে বিবাদী উভয় পক্ষই ঘাটাইল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

জানাযায়, রফিক ও সোরহাব মামা ভাগ্নে সম্পর্ক। ওয়ারিশের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধে গত ৫ই জুন বিবদমান জমিতে মারামারির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জহুর আলী সহ (৭০) ১৩ জন আহত হয়। আহতদের ঘাটাইল ও টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আহত জহুর আলীকে মধুপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে তার শাররীক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে গত ২৮ জুন তারিখে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

অভিযোগকারী সোরহাব আলী জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ৫ জুন রফিক ও জহুর আলীর নেতৃত্বে ১০/১২ জনের সংগবদ্ধদল লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের উপর এলোপাথারী হাম চালায়। এসময় আমরা মারাত্মকভাবে ৭ জন আহত হয়ে ঘাটাইল হাসপাতালে ভর্তি হই। এবং ঐ সময় তাদেরই অসতর্কতাবশত এলোপাতারি লাঠির আঘাতের গুরুতর আহত হয় রফিকের বাবা জহুর আলী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সোরহাব আলী আরো বলেন, এ ঘটনায় রফিক আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় আমরা এজাহার ভুক্ত আসামী হওয়ায় পলাতক থাকার সুবাদে রফিক গং আমাদের বাড়ীঘরে হামলা-ভাংচুর করে ৮/১০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। আবাসপত্র তছনছ করে ফেলে । এবং প্রতিনিয়ত আমার লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে।

রফিক জানান, ৫ জুন মারামারির ঘটনায় আমার বাবা গুরুতর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য আমি ঢাকাতে নিয়ে যাই। পরে ২৮ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা মৃত্যুবরন করেন। বিগতদিনে এলাকায় কি হয়েছে না হয়েছে আমি তা জানি না। লোকমুখে জানতে পারি সোরহাবের মেয়ের জামাই তার শ্বশুড় বাড়ি থেকে সকল জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং বাড়িঘর ভাংচুর করেন। আমার বিরোদ্ধে যত অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দ্যেশ্যপ্রণোদিত। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।

রফিকের মা জানায়, ওরা স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

এলাকাবাসী জানায়, রফিক গং তাদের প্রাপ্য ওয়ারিশ আগেই বিক্রি করেছে। যে জমি নিয়ে দন্দ সে জমিতে রফিকদের কোনো অধীকার নেই। সেই জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক সোরহাব। রফিক একটি ভুয়া দলীল করে উক্ত জমি দখলে নেয়ার পায়তারা করে।

সিরাজ ড্রাইভার সহ আরো অনেকেই জানান, জহুর আলীর ছেলে রফিক ও তার বোন জামাই সেলিমের নেতৃত্বে সোরহাবের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে বাড়ী ঘর ভাংচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে জানান।

এ বিষয়ে সাবেক ইউ পি সদস্য জহুরুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন , যে জমি নিয়ে দন্দ সে জমির মালিক মূলত সোরহাবের মা। আর রফিকের মা ওয়ারিশের মালিক হলেও কয়েক মাস আগে তার ভাগের অংশ তিনি বিক্রি করে দিয়েছে। পরবর্তীতে সোরহাব গং উক্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য গেলে রফিক গং বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।

এদিকে মিডিয়ার কর্মীদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার সহযোগীতা করার অভিযোগে রফিক ও তার সহযোগী মিন্টুর লোকজন রাজা মিয়া নামের এক ব্যাক্তিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন।

মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে রফিকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন তার মামলার আয়ু তাকে মোবাইল নিতে বলেছে। এবং মোবাইলটি আয়ুর কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শোসাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন




Developed By Justin Shirajul Islam
Design & Developed BY Mgic TV