1. ashikghatail18@gmail.com : ghatailmedia :
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

সিংগাইরে আঞ্চলিক মহাসড়কে গাইডওয়াল ধসে সড়কে ফাটল, চলছে দায়সারা জোড়াতালি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • বাংলাদেশ সময় বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০
  • ২১৭ বার ভিউ করা হয়েছে

হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের গাইডওয়াল ধসে মূল সড়কের পিচ ঢালায়ে ফাটল ধরেছে। চলতি বর্ষায় সড়ক সংলগ্ন সরু খালটিতে পানি আসলে দক্ষিণ পাশের গাইডওয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ফুটপাতসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস শুরু হয় এবং কিছু কিছু অংশে ১ ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। এতে সড়কটিতে যানচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের পুরো কাজ শেষ হওয়ার আগেই এই ধ্বস জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাটের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করছে। এ নিয়ে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। এ অবস্থায় স্থানীয় সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। সূত্রে জানা যায় কাজ শেষ হয়নি অথচ ঠিকাদাররা বেশির ভাগ বিল উত্তোলন করে নিয়েছে। কিভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সড়কের ধল্লা ভাষা শহীদ রফিক সেতু থেকে মানিকগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত ৩১ কি:মি: রাস্তা ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ আঞ্চলিক মহাসড়কে রুপান্তরের জন্য একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২৫৫ কোটি টাকা। মহাসড়কটি ৪ টি প্যাকেজে ৫টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে নিয়োজিত ছিল। শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠে। সড়কটি নির্মাণে ছিল না কোন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। অপরিকল্পিত ভাবেই এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর তার ফলে শুধু ফাটল কিংবা ধ্বস নয়, এ সড়কে এখন প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়ক নির্মাণের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে অনেকের। ইতিমধ্যে এ সড়ক এখন মরন ফাঁদ সড়ক হিসেবে আখ্যায়িত পেয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য কহিনুর ইসলাম সানী জানান, অনিয়মের মধ্য দিয়েই এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সড়কে বন্যার ছোঁয়া লাগেনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর পুকুরচুরি দুর্নীতি এবং মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণেই এমনটি হয়েছে। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অনেকে আবার সড়কের গাছ কাটা নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছে।
সড়ক পরিদর্শনকালে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, এটি সিংগাইর তথা মানিকগঞ্জবাসীর স্বপ্নের সড়ক। ইতিমধ্যেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর সাথে আমার কথা হয়েছে। স্থায়ী মেরামতের জন্য আমরা বলেছি। সড়কটি রক্ষায় তারা সবরকম পদক্ষেপ নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গাওসুল হাসান মারুফ সংবাদ কর্মীদের জানান, ৩১ কি:মি: সড়কের ৩০ শতাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে যাতে এ সমস্যার সমাধান হয়, আমরা সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। সড়কে দুর্নীতি হয়েছে এমন কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন কোন দুর্নীতি হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021 Ghatailmedia
Develper By Justin Shirajul